কোন মুখে বাংলাদেশকে অপমান করেন আজমল, লজ্জা করে না নিজের পরিসংখ্যান দেখলে?

পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে বাংলাদেশই তৃতীয় বারের মতো উঠে গেছে ফাইনালে। নিজ দেশের এমন ব্যর্থতায় সাঈদ আজমলের হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার নিজের সেই হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাদেশকে অপমান করেছেন!

বলেছেন, ‘এই দলগুলো এক সময় পাকিস্তানকে ভয় পেত। পাকিস্তানের ননাম শুনলেই হেরে যেত, তারাই এখন আমাদের ব্যাটসম্যানদের সামনে চোখ রাঙায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের পারফরম্যান্স এতোটাই বাজে ছিল যে, দেখতেই লজ্জা লাগছিল।’ এই কথা বলে তিনি কি বাংলাদেশকেই ছোট করে দেখলেন না? বাংলাদেশের জয়টাকেই খাটো করলেন না? ব্যর্থতার জন্য নিজ দলকে নিয়ে যা ইচ্ছা বলুন। কিন্তু অন্য দেশের উন্নতি দেখে এমন গা-জ্বলা ভাব দেখানোটা কি ভদ্রতার মধ্যে পড়ে?

মানলাম, দল হিসেবে বাংলাদেশ এক সময় অনেক বেশি দুর্বল ছিল। তাদের পাকিস্তানের সঙ্গে পেরে উঠত না। কিন্তু আগে পারত না বলেই এখন পারাটা তো কোনো দলের দোষের নয়। দোষ যদি হয়, সেই দোষটা তো তার দেশ পাকিস্তানেরই। তাদের দলই মহাকাশ থেকে মাটিতে নেমে এসেছে।

তাছাড়া বাংলাদেশকে নিয়ে এমন কথা বলার আগে আজমলের তো উচিত ছিল তার নিজের দিকেই তাকানো। তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষটা তো এই বাংলাদেশের কাছেই হয়েছে। এখন নয়, বরং আগে থেকেই বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে চোখ রাঙায়, সেই স্বাক্ষী তিনি নিজেই। ২০১৫ সালে নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের সেই দলটিতে সাঈদ আজমলও ছিলেন।

শুধু থাকা নয়, মিরপুরে নেমে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের কাছে রীতিমতো নাকাল হয়েছিলেন আজমল। প্রথম ম্যাচে ৭৪ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৯ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। বিবর্ণ পারফরম্যান্সের কারণে তৃতীয় ম্যাচে খেলতেই পারেননি। ছিটকে পড়েন দল থেকে। সেই শেষ। তারপরই শেষ হয়ে যায় তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার। তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেরও শেষ বাংলাদেশের কাছে হারের মধ্যদিয়েই।

সেই আজমল কি করে বাংলাদেশকে নিয়ে এমন কথা বলতে পারেন? শুধু বাংলাদেশের কাছে হার নয়, সরফরাজ আহমেদের দল ভারতের কাছে দুই ম্যাচেই নাস্তানুবাদ হয়েছে। ৪০ বছর বয়সী আজমল অবশ্য ওই হার নিয়েও সমালোচনা করেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে আমরা ওদের বাচ্চাদের মতো খেলেছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*