বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে খালেদাও জড়িত: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতির জনকের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৬ আগস্ট, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এ অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়ার স্ত্রী ভোট জালিয়াতি করে জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিকে সংসদে নিয়ে এসেছিলেন। এর মানে কী? শুধু জিয়া নয়, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে বাধা দিয়েছেন, কারণ তিনি এতে পুরোপুরি জড়িত ছিলেন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগ নেত্রী সাহারা খাতুন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা ‘আমার পরিচয়’ আবৃত্তি করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনা সদস্যের হাতে দেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই সময় বিদেশে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যান।

সেই রাতে জাতির জনকের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, কৃষকনেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ এবং আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৮ সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব বীর উত্তম কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদও (যিনি মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি পান) হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। একই সঙ্গে ঘটনার দিন খুনিদের কামানের গোলায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*