শাহবাগে শিক্ষার্থীদের লাইসেন্স তল্লাশি অভিযান

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রতিটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে গাড়ির লাইসেন্স তল্লাশি করছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা অবস্থান নিতে শুরু করে।

প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগ মোড়ে কয়েকশ’ ইউনিফর্ম পর শিক্ষার্থী অবস্থান নেয়। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগানও দেয়। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

সলিমুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্র বলেন, আমরা সড়ক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন করবো। আজকে আমরা কেউ উল্টো পথে আসছে কি না এবং লাইসেন্স আছে কি না চেক করছি।

এ ছাড়া ধানমন্ডির সায়েন্সল্যাব মোড়ে বেলা ১১টার দিকে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে তারা। এতে বন্ধ হয়ে গেছে ওই এলাকায় যান চলাচল।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় রাজপথে নেমে ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

 

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আজ শনিবার সকাল থেকে সপ্তম দিনের মতো রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা এ সময় জানান, সরকার তাদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত এমন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সড়কে কোনো অবৈধ যান চলতে দেওয়া হবে না।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্নস্থানে জড়ো হতে থাকে।

রাস্তায় অবস্থানকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যানবাহন আটকে গাড়ির কাগজপত্র এবং চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেন। তবে বরাবরের মতো তারা সহযোগিতা করেছেন অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী যানবাহনকে।

মতিঝিলে অবস্থান নিয়েছে নটরডেম, মতিঝিল সেন্ট্রাল কলেজ, আরামবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া ফার্মগেট মোড়েও অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে ফার্মগেট ও আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখানে জড়ো হন। ফার্মগেটে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা কোনো লাইসেন্স যাচাই করছে না। তবে তারা যান চলাচলের সুবিধার্তে তিনটি লেন তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে একটির চাপা পড়ে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*